বড় ভাইদের সাথে মিশে আদনান নোংরা রাজনীতির শিকার

27

Adnan is involved in politics with his elder brothers
আদনান তার বড় ভাইদের সাতে মিশে রাজনীতিতে শিকার । বন্ধুদের সাথে মিশে অবাধ্য হয়ে গেছে আমার। ছেলেটি এতো নষ্ট হয়ে যাবে আামি ভাবিনি। তার বন্ধু সোহেলের সাথে মেলামেশার কারণেই আজকে আদনানকে কারাগারে যেতে হয়েছে।এছাড়া সে রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের নোংরা রাজনীতির শিকার।’

Taspaya murder

অনেকটা ক্ষোভেই এই কথাগুলো বলেছেন স্কুলছাত্রী তাসপিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি আদনান মির্জার পিতা ইস্কান্দার মির্জা।
ইস্কান্দার মির্জা বলেন, তাসপিয়া নিখোঁজের দিন আদনানকে বাসায় বন্দি করে রেখেছিল তাসপিয়ার বাবা-চাচারা। তাদের থেকে আদনানকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে এক রাজনৈতিক বড় ভাই। এতো ঘটনা হয়ে যাওয়ার পরও আমাকে কিছুই জানানো হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি আদনানকে টেলিফোন করি, তবে আদনান আমাকে জানায় গাড়ি নষ্ট হয়েছে, ঠিক করা হচ্ছে তাই সময় লাগছে। পর দিন দেখি আদনান পুলিশের হাতে গ্রেফতার।

Iskander Mirza said

ইস্কান্দার মির্জা বলেন, আদনান আমার ছেলে হলেও তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে অন্য কেউ। ভুল পথে পা দিয়েই আজ তাকে বিপদে পড়তে হলো তাকে ।

আদনানের বাবা ইস্কান্দার মির্জার স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি সৌদি প্রবাসী। সেখানে মক্কায় পারিবারিক দোকান আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারির দেখাশোনা করতেন। ২০১৬ সালে বিদেশ থেকে একেবারেই দেশে ফিরে আসেন। সেই থেকে নগরীর পশ্চিম খুলশী জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির নিজস্ব ভবন রয়েল পার্কে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

Taspaia father Mohammad Amin claim

তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনের দাবি, তাসপিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২ মে সকালে তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের পর পরই আদনানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পরই বিভিন্ন মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে মামলাটি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন ইস্কান্দার মর্জিা।
মোহাম্মদ আমিন বলেন, এক আসামি ধরেই ক্ষান্ত কেন পুলিশ? আরও বাকি ৫ আসামি রয়েছে। ওরা কোথায়? পুলিশ কি কিছুই জানে না! পুলিশ চাইলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে গ্রেফতার করে মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারে। কিন্তু গ্রেফতার করছে না।
তাসপিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগরীর পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, আদনানের বাবা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য। তাসপিয়া হত্যায় তার সংশ্লিষ্টতায় ইতোমধ্যে তার কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আরো কিছু জানার জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছি।

SI Mohammad Anwar Hossain said

এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভিকটিম তাসপিয়ার পরনে থাকা পোশাকগুলো ডিএনএ ম্যাচ (রাসায়নিক পরীক্ষা) করানোর জন্য ১৪ মে (রোববার) আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে তা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তাসপিয়ার লাশ উদ্ধারের মাত্র চার ঘণ্টা পরই পুলিশের হাতে আটক হন বিদেশ ফেরত ইস্কান্দার মির্জার বড় ছেলে আদনান মির্জা। এরপর পতেঙ্গা থানা হাজত ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে চার দিন কাটিয়ে এখন গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে তার অবস্থান।
আগামী ৩১ মে আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তবে এর আগেই শুরু হয়েছে আদনানের বাবা ইস্কান্দার মির্জার নানামুখী তৎপরতা।

ইতোমধ্যে তিনি চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন আইনজীবী ঠিক করেছেন আদালতে রিমান্ড শুনানির বিরোধিতা করার জন্য।
এর আগেও আদনানকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে প্রায় ১৫ আইনজীবীর বিরোধিতায় আদালতের কাছে বিমুখ হয় পুলিশ। সেবার গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেই ক্ষান্ত থাকতে হয়েছে পুলিশকে। তবে প্রেমের শুরু থেকে এক মাসের উৎসবে মিলিত হওয়ার সময়কার মুখরোচক গল্প ছাড়া তার কাছ থেকে আর কিছুই জানতে পারেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২ মে স্থানীয়রা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা লাশটি তাসপিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.